সামাজিক শ্রেণীর মধ্যকার যোগসূত্রঃ বিকাশ ওয়ালেট

Raiya Kishwar Ashraf, Dhaka Community Manager
Dhaka, 15 December 2014

আর্থিক সেবা গ্রহণের সুবিধা বাংলাদেশে্র অনেক মধ্যম এবং উচ্চ শ্রেণী সম্প্রদায়ের কাছে এখনো একটি বিলাস দ্রব্য। যাদের অস্থিতিশীল বা বৃহৎ আয়ের উৎস নেই, তারা তাদের নগদ উপার্জন সংরক্ষণের জন্য প্রায়ই পৃথক চুক্তি-দাতাদের বা 'হোম ব্যাঙ্কের উপর নির্ভর করে। অস্থায়ী বা অবৈধ বাসিন্দাদের এবং ঢাকায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য সুলভ্ ব্যাংকিং সেবার ক্ষেত্রে যে শূন্যস্থান ছিল তা সম্প্রতি বিকাশ লিমিটেড পূরণ করেছে। বিকাশ, ব্র্যাক ব্যাংকের একটি সহায়ক, দেশব্যাপী দ্রুত, সাশ্রয়ী মূল্যে, এবং নিরাপদ ব্যাংকিং সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রায়ই বিনামূল্য খরচে সবার নিকট সহজলভ্যতার পাশাপাশি, বিকাশ অর্থ স্থানান্তর, আন্তর্জাতিক রেমিটেন্স শেয়ার, এবং সেভিং অ্যাকাউন্ট সেবারও প্রতিশ্রুতি দেয়।

বিকাশ ওয়ালেটে ন্যূনতম ১০০০ টাকা এবং এর উপরে যে কোন পরিমাণ রাখা যায়। সদস্যবৃন্দ স্থানীয় বিকাশ কেন্দ্রে একটি ফর্ম পূরণ করে, যেখানে তারা তাদের যে মোবাইল নম্বর বিকাশ ওয়ালেট বা অন্যান্য ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করবে তা প্রদান করে, এবং সাক্ষর-স্বরূপ বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ দেয়। গ্রাহকরা তারপর তাদের ওয়ালেটে যে পরিমাণ হস্তান্তর করতে ইচ্ছুক সে পরিমাণ অর্থ এজেন্টকে দেয়। এই পরিমাণ অবিলম্বে তাদের অ্যাকাউন্টে যুক্ত হয় এবং তারা দেশব্যাপী যে কোনো স্থান থেকে এটিএম এর মাধ্যমে বা অন্য বিকাশ এজেন্টের সাহায্যে টাকা উত্তোলন করতে পারেন। পাশাপাশি, তারা বিকাশের সাথে যুক্ত যে কোনো পরিসেবা গ্রহণের সময় বিকাশ ওয়ালেট ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া, তারা তাদের মোবাইল নম্বর সহ প্রাসঙ্গিক কোড ডায়ালের মাধ্যমে ফোন ক্রেডিট রিফিল এবং অর্থ স্থানান্তর করতে পারেন।

"যখন কোথাও টাকা পাঠাতে চান, তখন গ্রাহকরা আমার কাছে আসেন। প্রাপক তার বাসার কাছাকাছি এজেন্টের কাছে যান। পরে, প্রাপক তার এজেন্টে্র ফোন নম্বর শেয়ার করে, যা আমি রেকর্ড করে রাখি এবং তাদের ওয়ালেটে টাকা স্থানান্তর করি। আমি গ্রাহক থেকে ঐ পরিমাণ অর্থই নিই এবং যদি তারা বৃহৎ পরিমাণ টাকা পাঠান, সে ক্ষেত্রে আমি একটি ছোট লেনদেন-ফিও নেই। এ প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় এবং কোন দেরী হয় না। এটা ৫ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়," বলেন শহরের পলাশী বাজার এলাকার একটি দোকান-মালিক এবং বিকাশ এজেন্ট।

তাদের সেবার এই সহজবোধ্য সিস্টেমটি বয়স, পেশা বা শিক্ষার স্তর নির্বিশেষে যে কেউ মধ্যস্বত্বভোগী বা তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়া পরিচালনা করতে পারেন। বিকাশ ওয়ালেট পৃষ্ঠপোষকদের একটি দ্বি-বার্ষিক ভিত্তিতে তাদের সঞ্চয়ের উপর ৪% পর্যন্ত সুদ দিয়ে থাকে।

বিদ্যমান মোবাইল প্রযুক্তি এবং সাম্প্রদায়ীক যোগসূত্রের উপর নির্ভরতার কারণে এই সেবা তাৎক্ষণিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দক্ষতা অর্জন করেছে। চা-দোকান এবং শহর ও গ্রামাঞ্চলে ছোট বিক্রেতারা মোবাইল রিচার্জ কার্ড বিক্রি করে, যাদের ফোন নাই তাদের জন্য সেল ফোন ভাড়া এবং কল-প্রতি-চার্জ সেবা দেয়। এছাড়া, শহুরে গার্হস্থ্য কর্মী, দিন-মজুর, ক্লীনার্স এবং অনুরূপ নিম্ন বৈতনিক কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই তাদের মাসিক সঞ্চয় এবং আয় এসব এজেন্টদের কাছে রাখে। তাদের প্রায়শই কাজের তাগিদে অভিবাসন করতে হই। তাই, তারা এনজিও’র সঙ্গে সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খোলার বা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকে। সেজন্য বিকাশ আর্থিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদার কথা চিন্তা করে এই সুবিধাজনক বিকল্প প্রস্তাব করেছে।

এই সেবা শহরের অনেক অংশে স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন দেওয়ার কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিকাশ ওয়ালেট সেবার উপর ভিত্তি করে যে আরো অনেক উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে উঠবে এটি তারই ইঙ্গিত দেয়। তাই শহর ও গ্রামের মাঝে আর্থিক লেনদেন বাড়বে, যার ফলে গরীব অসহায় মানুষদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Photo: USAID Mobile Solutions

Permalink to this discussion: http://urb.im/c1412
Permalink to this post: http://urb.im/ca1412dhb