কাজ ও শিক্ষার বীজ সেলাই: তরুণ নারীপুরুষদের জন্য জাগো’র সেলাই কেন্দ্র

লেখিকাঃ রাইয়া কিশোর আশরাফ ও ফারহিনা হক, অনুবাদিকাঃ নুসরাত ইয়াসমিন
Dhaka, 18 February 2015

মূল নিবন্ধ: জাগো ফাউন্ডেশনের মত এনজি’ওর প্রায়ই অস্থিতিশীল উৎস বা অর্থায়ন অভাবের কারণে কাজ চালিয়ে কঠিন হয়ে পড়ে। জাগো ঢাকার রায়েরবাজার বস্তিতে রাস্তার এবং বস্তির শিশুদের জন্য স্কুল চালায়। এনজিও’টি প্রথমে করভিরাখসান্দের নেতৃত্বে একটি ছাত্র উদ্যোগ হিসাবে যাত্রা শুরু করে। করভী যখন ২১ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান আমান্ডা ফিশারের সাথে পরিচিত হয়, জাগো’র তখন শুধু এক শ্রেণীকক্ষে ৮০ বাচ্চাকে পড়ানোর এবং এক রুমে তাদের সব কাজকর্ম চালানোর সামর্থ্য ছিল। এই শিশুদের মধ্যে অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে দিবে রাস্তায় ভিক্ষা বা স্ক্র্যাপ সংগ্রহ করে পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করবার জন্য। এনজিও’টির পরিসর বাড়ানোর এবং এইসব পরিবারকে জীবিকা অর্জনের একটি বিকল্প প্রদান করার জন্য, করভী এবং অ্যামেন্ডা "সেলাই কেন্দ্র" খোলে যেটি তাদের ছাত্রছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সেলাই কৌশল এবং পোশাক নকশা করার প্রশিক্ষণ দেয়। আমান্ইয়্ তারপর, অস্ট্রেলিয়ায় তাদের পণ্য বিক্রি করতে একটি সামাজিক উদ্যোগ, বাচ্চারা খোলে।

সেলাই কেন্দ্রটি জাগো’র ছাত্রছাত্রীদের তরুণ মা এবং ভাইবোনদের জন্য উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে, পরিবারের একজন সদস্য কর্মসংস্থানের সুযোগই শুধু পাচ্ছে না, সে শিক্ষাও পাচ্ছে। আটটি সেলাই মেশিন দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও কেন্দ্রটি পরে আরো বিস্তার লাভ করেছে। কর্মচারীদের পশ্চিমা ক্লায়েন্টদের কথা মাথায় রেখে পোশাক নকশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পুনর্ব্যবহারযোগ্য শাড়ি এবং স্থানীয় সিল্ক ভিন্ন মাপ এবং আকারের প্রতিটি পোশাকের ৫০ সেট উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। পোশাক বিক্রয় থেকে অর্জিত মুনাফার ৫০% স্কুল চালানোর জন্য জাগো’কে খরচ করতে দেওয়া হয়। সেলাই কেন্দ্রের শ্রমিক / প্রশিক্ষণার্থীদের ৫০০০ টাকা অর্থ প্রদান করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ‘শ্রমের ন্যায্য মজুরি’ হিসেবে সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের বয়স এখন চার বছর। এই চার বছরের মধ্যে অনেক শিশু এবং তরুণ পুরুষ-মহিলা বিনামূল্যে শিক্ষা এবং যথাক্রমে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। “বাচ্চারা" দ্বারা তৈরিকৃত পোশাক এশিয়া এবং বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ জুড়ে বিক্রি হচ্ছে, যা এই প্রকল্পের কর্মকাণ্ড বজায় রাখতে সাহায্য করছে।

এই প্রকল্পের একটি প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ ছিল প্রশিক্ষণার্থীদের পশ্চিমা মানুষের দেহের আকার এবং আয়তনের সম্পর্কে একটা ধারনা দেওয়া। অ্যামেন্ডার নির্দেশনায় ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণার্থীদের সৃজনশীল ডিজাইন অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে এই বাধা অতিক্রম করা হয়। কেন্দ্রটি অনেককেই পোশাক ডিজাইন ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে. গ্রাহক প্রত্যাশা এবং ন্যায্য বাণিজ্যের মধ্যে শূন্যস্থানের কারণে, পণ্য বিক্রির সময় আমেন্ডা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল। “স্থিতিশীল বাজার খুঁজে বের করা কঠিন ছিল, কেননা এসব পণ্য বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হত না,” বলেন অ্যামেন্ডা। তিনি আরো বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে, প্রতিবার লাল গালিচার অনুষ্ঠান থেকে ঢাকার বস্তিতে পা রাখার অবস্থান্তরতা আমার জন্য কঠিনই ছিল। এটি ছিল আমার অভ্যন্তরীন চলমান যুদ্ধ - জীবনে উচ্চতর লক্ষ্য রাখে না এমন অনেকের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নিরুৎসাহিত না হয়ে আমার মিশনের প্রতি সৎ থাকা।"

বাচ্চারা এবং সেলাই কেন্দ্রের এখনো কার্যকর চলছে যদিও তারা নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনুরূপ প্রকল্প করতে চায় এমন ভবিষ্যৎ পরিকল্পকদের জন্য শ্রীমতি ফিশারের পরামর্শ তারা পণ্য গড়ার পূর্বে যেন মানুষের ব্যবহার এবং কেনার চাহিদা যাচাই করে নেয়, এবং তদনুযায়ী দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদন লাইন তৈরি করে। এরকম একটি সামাজিক উদ্যোগ সর্বদা বজায় রাখা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য, তাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, এবং পণ্যের ব্যাপারে গ্রাহকদের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখতে হবে। পাশাপাশি, সম্প্রদায় লক্ষ্য বজায় রাখার জন্য ভাবাবেগের সঙ্গে একটি কঠিন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকতে হবে।

কৃতিত্ব: অ্যামান্ডা ফিশার থেকে অনুমতি নিয়ে পুনর্মুদ্রিত

Permalink to this discussion: http://urb.im/c1502
Permalink to this post: http://urb.im/ca1502dhb