চট্টগ্রামের পথ-বাসীদের সমস্যা চিহ্নিত, পরিমাপন, এবং সমাধানে জড়িত এনজিও

আঞ্জুমান তানহা, নুসরাত ইয়াসমিন
Chittagong, 3 March 2015

দ্রুত নগরায়নের কারণে অনেক শহুরে দরিদ্র বাসিন্দাদেরকে রাস্তায় দু:সহ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। ১৯৮৭ সালে সাজিদা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়, যেটি ২০০৮ সালে "আমরাওমানুষ: উই আর পিপল টু" নামের একটি প্রকল্প শুরু করে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত এবং রাস্তায় বাস করা মানুষকে বাসস্থান সুবিধা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তিগত এবং দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণের মত সামাজিক সেবা প্রদান করা। তারা কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার জন্য চাহিদা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উপর ব্যাপকভাবে জোর দেয়। এই তথ্য দুটি পর্যায়ে বিবেচনা করা হয়: নিয়োগ ও নিয়োগ-পরবর্তী।

নিয়োগ পদ্ধতিঃ চট্টগ্রাম শাখায় কর্মরত ব্যবস্থাপকের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর তথ্য কল্পনা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিশদভাবে গ্রহণ করা হয়। শুধু চট্টগ্রাম রেল স্টেশন এলাকার রাস্তার অধিবাসীদেরকেই এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিয়োগের পূর্বে তিন মাসের ধরে, আমরাওমানুষ প্রকল্পের সঙ্গে ইতিমধ্যে জড়িত রাস্তার অধিবাসী সহ ২-৩ জন কর্মী অধিবাসীদের উপর নজর রাখে। প্রথমে, কর্মচারীরা পর্যবেক্ষণ করে কারা বাস্তবার্থে গৃহহীন। এর জন্য তারা মানুষটির সাক্ষাৎকার নেয়, লক্ষ্য করে কিভাবে সে উপার্জন করে, সে মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত এবং দারিদ্র্যের কারণে কিনতে অক্ষম কিনা। এই তথ্য সংগ্রহ করার জন্য কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি নেই; ফিল্ড ম্যানেজার, সম্প্রদায় প্রধান, রাতে আশ্রয়দানকারী সুপারভাইজার, শিক্ষক, প্যারামেডিক, পরিচালক সবাই রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করে এবং জরিপের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে ব্যক্তিকে তারা চিহ্নিত করেছেন আসলেই তার এই প্রতিষ্ঠানের সাহায্যের প্রয়োজন আছে কিনা। শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি-ই না এমনকি একটি পরিবার যারা মানদণ্ডের মধ্যে পড়ে তাদেরকেও কর্মীরা বিবেচনায় রাখে। প্রতিদিন এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে, এবং যখনই কর্মচারীরা স্টেশনে একটি গৃহহীন ব্যক্তিকে সনাক্ত করে, তারা তার সম্পর্কে তদন্ত শুরু করে। ফিল্ডে কাজ করার সময় তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক নয়। শুধু যখন রাস্তায় বাস করে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের আমরাওমানুষ প্রকল্পের সদস্য হওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয় তখনি ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে ব্যক্তিগত তথ্য ফর্মে টুকে রাখা হয়। ব্যক্তি যদি একক হয়, তাহলে ব্যক্তিগত বিবরণ যেমন ব্যক্তির নাম, পিতার নাম, গ্রাম, বয়স, লিঙ্গ ইত্যাদি তথ্য সংদ্রহ করা হয়। এটি যদি একটি পরিবার হয়, তাহলে পরিবার প্রধানের নাম এবং প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত বিবরণ একটি ফর্ম লিখে করা হয়। এই সব তথ্য সফ্টওয়্যারের মধ্যে সংরক্ষিত করা হয়।

নিয়োগ-পরবর্তীঃ স্বাস্থ্য যত্ন, লকার, স্যানিটেশন এবং রান্নার সুবিধা সব জন্য একই। ডে কেয়ার সেন্টার সুবিধা সেসব শিশুদের দেওয়া হয় যারা কৈশোর এবং বাবা-মা কাজ করছেন। কৈশোরদেরকে দে কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয় এবং তাদের মা’কে বিশেষ করে যারা একক, তাদেরকে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহী শিশুদের স্কুলে ভর্তি করে দেয় এবং হাউজিং সুবিধা প্রদান করে। সব শিশুদের প্রতিষ্ঠান থেকে খাদ্য সরবরাহ করা হয়। পুরুষদের বাসস্থান সুবিধা দেওয়া হয় না। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যাদের কোনো পেশা নেই, তাদের পোশাক কারখানায় নিযুক্ত করা হয়। প্রকল্প কর্মীরা অংশগ্রহণকারীদের সঞ্চয়ে উত্সাহিত করে এবং কোন সদস্য (রা) ইচ্ছুক হলে তারা ম্যানেজারের কাছে জমা রাখতে পারেন। ৩০০০-৫০০০ টাকা আর্থিক সুবিধা নির্দিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের প্রদান করা হয় যারা সৎ, মহৎ এবং সঠিকভাবে অর্থ ব্যবহার করবে বলে মনে হয়। এই নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের কিভাবে একটি ব্যবসা চালাবে তার উপর পেশাদার দ্বারা তিন দিনের ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যখনি কোন সার্ভিস প্রদান করা হয়, তখনি ব্যক্তির নাম নিবন্ধন করে রাখা হয়।

যখন ব্যক্তি/পরিবার তাদের স্ব-বাসায় বাস করতে সক্ষম হয় এবং প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছুক হয়্, তারা “স্নাতক”পদবি লাভ করে। প্রতিটি জুন এবং ডিসেম্বরে তারা সফ্টওয়্যার তালিকা চেক করে দেখেন কতজন ব্যক্তি/পরিবার স্নাতক করেছেন এবং আগে স্নাতক করেছেন এমন কোনো ব্যক্তি/পরিবার প্রকল্পে ফিরে এসেছে কিনা। চট্টগ্রামে প্রতি ছয় মাসে প্রকল্পের সাথে প্রায় ১৮০০ জন অংশগ্রহণকারী জড়িত হয়। প্রতি মাসের ৪ তারিখের মধ্যে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ের পরিচালকের কাছে স্বাস্থ্য সুবিধা, রাতে আশ্রয়, খাদ্য, লকার ইত্যাদির রিপোর্ট মেইল করা হয়।

Photo: Sajida Foundation

Permalink to this discussion: http://urb.im/c1503
Permalink to this post: http://urb.im/ca1503chb