সৌর বোতল বাতি: আলোকজ্বল দরিদ্র বাসভবন

লেখিকা: প্রতিভা টেন্ডুল্কার, অনুবাদিকা: নুসরাত ইয়াসমিন
Dhaka, 14 April 2015
ঢাকায় নিয়মিত ৩ থেকে ৪ ঘন্টা অন্তর লোড শেডিং দেশের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সূর্যালোক প্রবেশ করে না বললেই চলে এমন অবৈধ জনবসতির আবদ্ধ পরিবারও সমানভাবে বিদ্যুৎ সঙ্কট দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। ঢাকার বস্তিগুলো অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের উপর নির্ভর করে; তারা প্রতিদিন ১০০ ওয়াটের বা এর বেশী দশ ঘন্টার অধিক সময়ের জন্য ব্যবহার করে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এই পরিবারগুলো প্রায়শই অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। এই সমস্যা মোকাবেলা করার প্রয়াসে, চ্যাইঞ্জ, একটি ঢাকা-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উপদেষ্টা-বৃত্তি’র প্রধান সাজিদ ইকবালের নেতৃত্বে ‘বোতলবাতি' প্রকল্প শুরু হয়। প্রকল্পের লক্ষ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার হ্রাস করে বস্তিতে শক্তি সঞ্চয়ে উন্নতি সাধন করা। প্রতিষ্ঠানটি বস্তিতে দৈনিক বিদ্যুত ব্যবহার হ্রাস করার জন্য বৈদ্যুতিক বাল্বের একটি বিকল্প সমাধান হিসেবে বোতলবাতি চালু করেন।

বোতলবাতি প্রকল্পের উদ্যোগ ২০১২ সালে শুরু হয় যখন এনভায়োরনম্যানটাল ম্যানেজমেন্ট’এর স্নাতক ছাত্র, সাজিদ ইকবাল এমআইটি ছাত্রদের সহযোগিতায় একজন ব্রাজিলিয়ান সংস্কারক, আলফ্রেডো মোযার’এর 'লিটার অফ লাইট' – এর উপর একটি ফেসবুক ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন। সৌর বোতল সস্তা এবং পরিষ্কার পানি ও অল্প ক্লোরিনে ভরা প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি।বোতলগুলো তারপর টিনের পাত এবং ওয়াটারপ্রুফ আঠার সাহায্যে ছাদের গর্তে এঁটে দেওয়া হয়। সৌর বোতলগুলো সূর্যালোক প্রতিসৃত করে এবং ৫৫ ওয়াটস উত্পাদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ রুম আলোকজ্জ্বল করে রাখে।

জিআইজেড’এর (জার্মান উন্নয়ন কো’অপারেশন) সঙ্গে, চ্যাইঞ্জ, ২০১৩ সালে ঢাকার মিরপুরের বাউনিয়া-বাধ বস্তিতে একটি সামাজিক ব্যবসা হিসেবে বোতলবাতি প্রকল্প শুরু করে। বোতল লাইট বস্তির ২৫০ পরিবারের মধ্যে স্থাপন করা হয় যা পরিবারগুলোর মধ্যে দিনমান আলো সুবিধা প্রদানে সফল হয়েছে। যখন সাজিদের মতে, এই এলাকার৮৩ শতাংশ মানুষ এখনও এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন এবং মাত্র ১৬ শতাংশ বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। এই উদ্যাগটি কার্বন নির্গমন ও বিদ্যুতের অপব্যবহার কমাতে সফল হয়েছে। ধারণা করা হয়, এই প্রকল্পের ফলে প্রতি বছর প্রায় ৯৮.৮৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত সংরক্ষিত হচ্ছে। একইভাবে, স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রকল্পটি সাদরে গ্রহণ করেছে যেহেতু এটি তাদের বিদ্যুৎ বিল হ্রাস এবং লোডশেডিং দ্বারা সৃষ্ট ব্যাঘাত ছাড়া নিয়মিত কাজ করতে সাহায্য করছে। দরিদ্র স্কুল ও পরিবারের মধ্যে সৌর বোতল আলোর উচ্চ চাহিদার কারণে, চ্যাইঞ্জ, ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার জেনেভা ক্যাম্পের স্কুলগুলোর শ্রেণীকক্ষের মধ্যে বোতল লাইট লাগিয়ে দিয়েছে।
সৌর বোতল লাইট যেহেতু শুধুমাত্র দিনে কাজ করে থাকে, তাই চ্যাইঞ্জ সৌর বোতল আলো প্রযুক্তির পরিবর্তিত আকারে রাতে ব্যবহারোপযোগী একটি সৌর লণ্ঠন প্রকল্প শুরু করেছে। সৌর লণ্ঠন তৈরী করা হয় একটি সৌর প্যানেল এবং একটি ব্যাটারি সঙ্গে একটি ২০ ইঞ্চি ব্যাস পাইপের সাহায্যে প্লাস্টিক বোতলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে। সাজিদ মতে, সৌর লণ্ঠন বাজারে পাওয়া অন্যান্য বাতির তুলনায় সস্তা। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়দের জন্য বাতি মেরামত বা তাদের নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করবে এমন কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। তাই, প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র জনবসতি এবং গ্রামীণ এলাকার মধ্যে এই মজবুত প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসারণ করবার উদ্দ্যেশ্যে সরকার ও মানুষের কাছে সাহায্য ও সমর্থন প্রার্থনা করছে। বর্তমানে, বেশ কিছু যুব সংগঠন লিটার অফ লাইটের অনুরূপ প্রকল্প শুরু করেছেন । তবে, সাজিদ মনে করেন প্রকল্পটি সংবেদনশীল এবং পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন না করলে এটি দরিদ্র পরিবারগুলোর ঘরের ছাদে ফুটো সৃষ্টি করতে পারে।

চিত্র: চ্যাইঞ্জ বর্ণিত বোতলবাতি প্রক্রিয়া’র লিফলেট

Permalink to this discussion: http://urb.im/c1504
Permalink to this post: http://urb.im/ca1504dhb